এটা কার জন্য উপযোগী?
বধির, পিতামাতা/যত্নশীল, শিক্ষা পেশাদার ও সাধারণ জনগণ।
যোগাযোগ ও সংযোগ স্থাপনের হাজারো উপায় রয়েছে – তা হতে পারে কথোপকথন, ইশারা ভাষা, স্পর্শ, নড়াচড়া, অঙ্গভঙ্গি, শব্দ, ছবি, বস্তু বা ইলেকট্রনিক উপকরণের মাধ্যমে।
তবে সাধারণত শ্রবণদৃষ্টি, বহুমাত্রিক ও গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে এবং তাদেরকে পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহজবোধ্য শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
এটি “সামগ্রিক যোগযোগ” পদ্ধতি বলা হয়।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, নতুন কোনো যোগাযোগ পদ্ধতি শেখা কখনোই বিলম্বিত কোনো বিষয় নয়। চেষ্টা চালিয়ে যান, ভুল হওয়ার বিষয়ে চিন্তা করবেন না।
প্রচলিত যোগাযোগ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ইশারা ভাষা বা স্পর্শ ইশারা ভাষা।
- মাকাট —ইশারা ভাষার একটি সহজ সংস্করণ।
- ব্রেইল — স্পর্শের মাধ্যমে উঁচু ডট ব্যবহার করে পড়া যায়।
- শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা ম্যানুয়াল, যেখানে হাতের উপর স্পর্শের মাধ্যমে শব্দ বানান করে যোগাযোগ করা হয়।
- লিপ রিডিং বা ওষ্ঠপঠন (মৌখিক যোগাযোগ)।
যোগাযোগের ধরন
আমরা যোগাযোগের যেসকল প্রধান মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি:
স্পর্শের ব্যবহার
- ব্রেইলে স্পর্শের মাধ্যমে উঁচু ডট ব্যবহার করে পড়া যায়।
ব্রেইল লেখার একটি পদ্ধতি যা স্পর্শের মাধ্যমে পড়া যায়। ব্রেইলে অক্ষর ও সংখ্যাগুলো ছয়টি ডটের মাধ্যমে লেখা হয়। প্রতিটি অক্ষর ও সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ডট ব্যবহার করে লেখা হয়।
- ব্লক বর্ণমালা— হাতের উপর আঙ্গুলের স্পর্শ দিয়ে অক্ষর বুঝিয়ে দেয়া।
ব্লক বর্ণমালায় দৃষ্টির ব্যবহার বা কথা বলার পরিবর্তে স্পর্শের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। শব্দগুলো ব্লক ক্যাপিটাল অক্ষরে আপনার হাতের তালুতে স্পর্শের মাধ্যমে বানান করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
- উচু ডট ব্যবহার করে বক্ররেখা তৈরির মাধ্যমে চাঁদ বোঝানো হয়।
যেখানে ব্রেইল ডট ব্যবহার করে, সেখানে উচু ও অতিরিক্ত ডট ব্যবহার করে বক্ররেখা তৈরির মাধ্যমে চাঁদ বোঝানো হয়। এগুলো শব্দের অংশ, পুরো শব্দ বা সংখ্যা বোঝাতে সহায়তা করে
- ট্যাডোমা ব্যবহার করে স্পর্শের মাধ্যমে ওষ্ঠপঠন করা যায়।
ট্যাডোমা হলো স্পর্শের মাধ্যমে কারও কথা বোঝার একটি পদ্ধতি। এই কারণে এটি ‘স্পর্শের মাধ্যমে ওষ্ঠপঠন ’ নামেও পরিচিত।
আপনি আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলির মাধ্যমে বক্তার ঠোঁট স্পর্শ করুন, মাঝের তিনটি আঙুল চোয়ালের উপর এবং কনিষ্ঠা আঙুল দ্বারা গলা স্পর্শ করুন
আপনি বক্তার কথাগুলি মুখের নড়াচড়া, চোয়ালের গতিবিধি এবং গলার স্বরের ওঠানামার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন।
বক্তা যখন ‘এন’ ও ‘এম’র মতো অক্ষর উচ্চারণ করেন, তখন আপনি তার গালে বাতাসের আধিক্য এবং গরম বাতাস বের হওয়াকে অনুভব করার মাধ্যমে তার সাথে উচ্চারণ করুন।
- হাতের নীচে হাত রেখে স্পর্শ করার মাধ্যমে ব্যবহৃত ইশারা ভাষাকে স্পর্শ ইশারা ভাষা বলা হয়।
ইশারার ব্যবহার
- ইশারা ভাষা
ইশারা ভাষা হলো যোগাযোগের একটি মাধ্যম, যেখানে মৌখিক ভাষার পরিবর্তে মৌখিক অভিব্যক্তি, অঙ্গভঙ্গি এবং হাতের নড়াচড়া ব্যবহৃত হয়। ইশারা ভাষা প্রধানত শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ বহুমাত্রিক ও গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ব্যবহার করে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষার ভিত্তি করে ইশারা ভাষার অনেক ধরনের সংস্করণ রয়েছে।
- মাকাতন ইশারা ভাষার একটি সহজ সংস্করণ।
মাকাতন, অথবা “কী ওয়ার্ড সাইনিং”, হলো একটি সহজ ও সুবিধাজনক যোগাযোগের মাধ্যম যেখানে ইশারা, চিহ্ন ও কথা ব্যবহৃত হয়। এটি একটি আনুষ্ঠানিক ইশারা ভাষা নয়। মাকাতন স্থানীয় ইশারা ভাষার উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।
- অপেক্ষাকৃত কম দৃষ্টি সম্পন্ন (ক্ষীণ দৃষ্টি) ব্যক্তিদের জন্য ভিজ্যুয়াল ফ্রেম সাইনিং ব্যবহৃত হয়।
ভিজ্যুয়াল ফ্রেম সাইনিং-এর মাধ্যমে, যিনি আপনার সাথে যোগাযোগ করছেন, তিনি ইশারা ভাষা ব্যবহার করেন এবং আপনার দৃষ্টি সীমার মধ্যে ইশারাগুলো ব্যবহার করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কারও টানেল ভিশন থাকে তাহলে কেবল তাদের চোখের সামনে বা নির্দিষ্ট সীমিত দৃষ্টিসীমার মধ্যে এই ইশারা ভাষাগুলো ব্যবহার করতে হবে।
- অবজেক্ট রেফারেন্স
একটি বস্তু বা বস্তুর অংশবিশেষ ব্যবহার করে যখন কোনো ব্যক্তি, স্থান ও কর্মকান্ড শনাক্ত করা হয় তখন তাকে ‘অবজেক্ট অব রেফারেন্স’ বলে। উদাহরণস্বরূপ:
ব্যক্তির ক্ষেত্রে: একটি টুপি বা ব্রেসলেট = একজন পরিচিত বন্ধু।
জায়গার ক্ষেত্রে: একটি পেন্সিল = স্কুল।
কাজের ক্ষেত্রে: একটি চামচ = খাবারের সময়।
একইভাবে কাউকে কিছু জানানোর জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তার ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। যেমন, একটি কাপ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে “আমি পানি চাই।”
কথা বলা
- সুস্পষ্ট বক্তব্য
স্পষ্ট বক্তব্য এমন একটি বিষয়/ মাধ্যম, যেখানে প্রতিটি শব্দ, বাক্য এবং ধারণা স্পষ্ট ও সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়।
- ওষ্ঠপঠন
ওষ্ঠপঠনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি কথা বলার সময় তাঁর ঠোঁটের গঠন, দাঁত ও জিহ্বার ব্যবহার, এবং তাদের অঙ্গভঙ্গি ও মুখের অভিব্যক্তি শনাক্ত করতে ও বুঝতে পারে।
- কথা বলা, লেখা বা ইশারা ব্যবহার না করে যে পদ্ধতিতে যোগাযোগ করা হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হল কথা বলা, লেখা বা ইশারা ভাষা ব্যবহার না করে আপনার অনুভূতি, চাহিদা ও পছন্দ প্রকাশ করার একটি উপায় যেমন
অঙ্গভঙ্গি
শ্বাস নেওয়ার ধরণে পরিবর্তন।
চোখের নির্দেশনা
মৌখিক অভিব্যক্তি।
অঙ্গভঙ্গি।
শব্দ করা (অথবা স্বর প্রকাশ)।
আঙুল দিয়ে দেখানো।
- নিবিড় যোগাযোগ পদ্ধতিতে প্রতিটি আচরণকেই যোগাযোগ হিসেবে ধরা হয়।
নিবিড় যোগাযোগ এমন একটি পদ্ধতি, যা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতার প্রাথমিক ধাপগুলো বিকাশে সহায়তা করে। যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তা করার একটি পদ্ধতিই হল নিবিড় মিথস্ক্রিয়া।
শিশুদের কর্মকাণ্ড, আওয়াজ/ শোরগোল আমরা যেভাবে পর্যবেক্ষণ ও সাড়া প্রদান করি এবং সেগুলোকে যোগাযোগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি, এই পদ্ধতিটি মূলত সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই পদ্ধতি একজন ব্যক্তি ও তার যোগাযোগ সঙ্গীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং একে অপরের সান্নিধ্য উপভোগ করতে সহায়তা করে।
শিশুদের আওয়াজ/ শোরগোল, কর্মকাণ্ড আমরা পর্যবেক্ষণ করি ও সাড়া দেই এবং সেগুলোকে যোগাযোগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি, এই পদ্ধতিটি মূলত সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে একজন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের অঙ্গভঙ্গি, স্বর ও মৌখিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে সাড়া প্রদান করে অর্থাৎ তাদের প্রতিক্রিয়া এই পদ্ধতিতে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই তথ্যগুলো যুক্তরাজ্যের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিবন্ধী দাতব্য সংস্থা সেন্স কতৃ্ক প্রস্তুতকৃত। সেন্স শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাসহ বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করে থাকে।
আন্তর্জাতিক দর্শকের জন্য সম্পাদিত (২০২৪)