এটা কার জন্য উপযোগী?
শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাদের অভিভাবক, পরিচর্যাকারী, শিক্ষক, অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
আশিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রের একজন লেকচারার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা কার্যক্রমকে কীভাবে আরও সহজ ও গুণগত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করে থাকেন তিনি। বর্তমানে সে শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বৈশ্বিক রিসোর্স হাবের সাথে যুক্ত হয়েছে। যেখানে সে জীবনযাপন, শিক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারছে।
এই রিসোর্সে মূলত শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বৈশ্বিক রিসোর্স হাব কীভাবে তার শিক্ষকতা জীবন ও কাজে পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে সে এখান থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারে সে সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
ভিডিও প্রতিলিপি
প্রথমবার রিসোর্স হাবের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে আসলে রিসোর্স হাবটা যেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয়, আমি সে অনুষ্ঠানে ছিলাম। তো সেখানেই প্রথম আমি এ বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পারি। এর আগেও অবশ্য আমি সিডিডির সাথে কাজ করেছি শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বিষয় নিয়ে। তবে রিসোর্স হাবের বিষয়টা ওই দিনই প্রথম জানতে পারি এবং পরবর্তিতে যখন আমি বিএসএড প্রশিক্ষণার্থিদের ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম তখন হঠাৎ আমার মাথায় আসে যে আমি এই রিসোর্স হাব থেকে আমি আমার ফাইন্ডিংসগুলো বের করতে পারি কি না একটু দেখি।
তখন আমি এই ওয়েবসাইটে ঢুকি এবং ঢুকে আমি আমার নোটসটা রেডি করি যে নোটসের মাধ্যমে আমি আমার প্রশিক্ষণার্থিদের পড়াব। তো রিসোর্স হাবে ঢুকে আমার যেটা খুবই ভালো লেগেছে যে ওখানে প্রশ্ন আকারে উত্তর দেওয়া। যেমন শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা কী, এর প্রকারভেদগুলো কী, একজন শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাথে আমি কীভাবে কাজ করবো, তাকে কীভাবে আমি ডেইলি রুটিনগুলো বোঝাবো, এগুলো খুব সুন্দরভাবে ছোট ছোট আকারে সহজবোধ্যভাবে এখানে উপস্থাপন করা। তো প্রথমবার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমার খুবই ভালো ছিল এবং এটা দিয়ে আমি যে নোটসটা রেডি করেছি সেটা দিয়ে আমার প্রশিক্ষণার্থিরা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছে। এবং আমি মনে করি যে এই রিসোর্স হাবের যে ইনফরমেশনগুলো, এতোটা সহজভাবে দেওয়া যাতে করে একজন গবেষক তিনিও যেমন বুঝতে পারবেন, আরেকজন অশিক্ষিত ব্যক্তি তিনিও যদি সেখানে যান তিনিও সেখান থেকে বুঝতে পারবেন।
তো, এই রিসোর্স হাবের ভেতরে আমার যেটা খুব ভালো লেগেছে সেটা হলো একজন শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অথবা শিশুর যারা কেয়ারগিভার আছেন বিশেষ করে তার অভিভাবক বা কেয়ারগিভাররা তারা আসলে কীভাবে শিশুটিকে ডিল করবে এটা খুব সুন্দরভাবে বলা আছে। এ অংশটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
যেমন একজন শিশূকে কীভাবে তার মা বা কেয়ারগিভার টয়লেট ট্রেনিং করবে, কীভাবে তাকে খাওয়াবে, কীভাবে তাকে রুটিন ওয়াইজ একটা জীবনে অভ্যস্ত করবে এবং এভাবে তাকে ধাপে ধাপে কীভাবে একটা স্বাভাবিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করবে এ ব্যাপারে কিন্তু খুব সুন্দরভাবে এখানে বলা আছে। যে অংশটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
আর ভবিষ্যতের কথা যদি বলতে চাই, যেটা আমার মনে হয়েছে যে আমি যখন আমার স্টুডেন্টদেরকে, আমার প্রশিক্ষণার্থীদেরকে যখন শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কমিউনিকেশন নিয়ে যখন পড়াতে যাচ্ছিলাম অর্থাৎ তার সাথে আমি যোগাযোগটা কীভাবে করবো, তো এইখানে আমার মনে হয় রিসোর্স হাবের ভেতরে আরেকটু গভীরে যাওয়া যায় বলে আমার মনে হয়। যদি যায় তাহলে আরেকটু ভালোভাবে সবাই শিখতে পারবে।
সেটা হলো, যেমন তাদের একটা কমিউনিকেশনের মূল মাধ্যম হলো ট্যাকটাইল ল্যাঙ্গুয়েজ বা স্পর্শ ভাষা। তো আমার মনে হয় এই রিসোর্স হাবের মধ্যে যদি কিছু ভিডিও টিউটোরিয়াল থাকতো যেখানে এই স্পর্শ ভাষাগুলোকে আমরা কীভাবে একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শেখাই। কিন্তু কীভাবে আমি একজন শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতটা ধরবো, ধরারও আমার মনে হয় একটা সিস্টেম আছে। আমি কি তার হাত ধরবো না কি সে আমার হাত ধরবে, আমি কি তার মুখের কাছে আমার হাত নেব না কি সে আমার মুখের কাছে তার হাত নেবে এবং তাকে আমি কতটুকু টাচ করতে পারবো, তার কোন কোন জায়গায় টাচ করতে পারবো, কোন কোন জায়গায় আমি টাচ করতে পারবো না বা উচিত না, আমার মনে হয় এগুলো সম্পর্কে একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল যদি ধাপে ধাপে দেওয়া থাকতো তাহলে আমার মনে হয় এটি খুব ভালো হতো। তাহলে যারা বিশেষ শিক্ষক আছেন, কেয়ারগিভার আছেন তারা এই শ্রবণদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে এটা তাদের অনেক উপকারে লাগবে বলে আমি মনে করি।